এবারের ভোট কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব: নির্বাচন কমিশনার

এবারের ভোট কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব: নির্বাচন কমিশনার
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ শনিবার ভোলার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ এর অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:২৫

আপডেট: ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:২৮

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা নিয়ম রক্ষার বিষয় নয়; এটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং জাতীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

শনিবার সকালে ভোলার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’-এর এক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমকে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করতে হবে। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বিশেষভাবে ভোটকেন্দ্রে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। তার মতে, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে—এমন যেকোনো উপাদান আগেই চিহ্নিত করে প্রতিরোধ করা জরুরি।

সভায় নির্বাচন কমিশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সব সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।

সভায় আরও জানানো হয়, সম্ভাব্য অনিয়ম, গুজব ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন আচরণবিধি প্রতিপালন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ডা. শামীম রহমান, ভোলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাউছারসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভোলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।