শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চার জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এ আদেশ দেন।
বাকি দুই আসামি হলেন- সাফিকুরের বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তর পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া। শুনানি শেষে আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ৯ নং সেক্টরের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেপুর রহমান বলেন, 'গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ বিমানের এমডি ও তার স্ত্রীসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে।'
১১ বছরের গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই গৃহকর্মীর বাবা মোস্তফা থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে গোলাম মোস্তফা গত বছরের জুনে তার মেয়েকে সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ তিনি গত ০২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন। এরপর মেয়েটিকে তার পরিবারের সঙ্গে আর ‘দেখা করতে দেওয়া হয়নি’ বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি আসামি বীথি ফোন করে গোলাম মোস্তফাকে তার মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান। তাকে নিয়ে যেতে বলেন। মেয়েকে আনতে গেলে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।
মামলার বাদী মোস্তফা অভিযোগে জানান, ওই বাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে আসার সময়ই মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান তিনি। মেয়েটি তখন ভালো ভাবে কথাও বলতে পারছিল না। এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে বীথি সদুত্তর দিতে পারেননি।
এরপর মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। মেয়েটি তখন তার বাবাকে জানায়, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্যাতন করা হতো। মারধরের পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাকাও দেওয়া হতো।
আরো পড়ুন: