আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, 'নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যরা (এমপি) রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে পারেন। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নিতে পারেন।'
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা (নতুন এমপিরা কার কাছে শপথ নেবেন) সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, এ বিষয়ে এখন চূড়ান্ত কিছু বলতে পারবো না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ পড়াবেন। সে ক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন যারা সংসদ সদস্য হবেন ইনশাআল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনের পর তাদের শপথ গ্রহণ করানোর কথা হচ্ছে স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। তারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে। এখন আমাদের এখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন জেলে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে এবং তারা পদত্যাগও করেছেন, বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এই অবস্থায় তাদের দ্বারা শপথ গ্রহণ করার কোনো রকম স্কোপ আছে বলে আমি মনে করি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আইনে আছে তারা (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন তাহলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। এটা হচ্ছে এক। দুই হচ্ছে তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয় তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।’
এখন বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে আলোচনা হবে জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি আসবেন, তার সঙ্গে কথা বলবো। আইনটা দেখবো। তারপর চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টাকে আমার অভিমত জানাবো।’
আরো পড়ুন: