২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান

২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩২

খাগড়াছড়ি/ঢাকা — আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ পানছড়ি ও দীঘিনালায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পানছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩ বিজিবি) আওতায় থাকা প্রায় ২১.৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা এবং সংলগ্ন ২৭টি দুর্গম ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে ৬ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার পানছড়ি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিজিবি সদস্যরা স্থলপথ, নদীপথ এবং পদব্রজে নিয়মিত ‘ডমিনেশন টহল’ পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে দীঘিনালার অতি দুর্গম এলাকা নাড়াইছড়িতে অবস্থিত একটি ‘হেলি-সাপোর্টেড’ ভোটকেন্দ্রে বিজিবির সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাহাড়ের এই গহীন এলাকায় ভোটারদের জানমালের নিরাপত্তা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের নির্বিঘ্ন পরিবেশ বজায় রাখাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিশ্ছিদ্র করতে এবারই প্রথম পাহাড়ে ড্রোন নজরদারি এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া পরিস্থিতির অবনতি রোধে আধুনিক রায়ট কন্ট্রোল সামগ্রী এবং বিভিন্ন স্ট্রাটেজিক পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। লোগাং বিজিবি ক্যাম্প ও গিলাতলী বিওপিতে কড়া তল্লাশির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণসংযোগ কর্মসূচিও পরিচালনা করছে বিজিবি।

সারাদেশের প্রেক্ষাপটে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে উপকূলীয় ছয়টি উপজেলা বাদে মোট ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সদর দফতর জানিয়েছে, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে ভোটাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিশাল নিরাপত্তা মোতায়েন কেবল নির্বাচনের দিনের জন্য নয়, বরং ভোট-পরবর্তী স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যও একটি শক্তিশালী বার্তা।