নিবন্ধন আইন সংশোধন: কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি ও বকেয়া আদায়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

নিবন্ধন আইন সংশোধন: কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি ও বকেয়া আদায়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:২৪

বাংলাদেশের প্রচলিত নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক এবং আইনি জটিলতামুক্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘নিবন্ধন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আজ শনিবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মূলত ১৯০৮ সালের মূল রেজিস্ট্রেশন আইনকে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে অধিকতর যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশটি জারি করেছেন। নতুন এই আইন অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের সংজ্ঞায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূল আইনের ২৬ নম্বর ধারায় আগে যেখানে কেবল ‘ফি’ শব্দটি ব্যবহার করা হতো, এখন থেকে সেখানে ‘ফি, কর, পরিষেবা চার্জ বা শুল্ক, যা প্রযোজ্য’—এই শব্দগুচ্ছ প্রতিস্থাপিত হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রাপ্য বিভিন্ন আর্থিক পাওনার পরিধি যেমন সুনির্দিষ্ট হয়েছে, তেমনি আইনি অস্পষ্টতা দূর করার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর ফলে নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ দলিল সম্পাদনের সময় সব ধরণের প্রযোজ্য চার্জ বা শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী আইনি ভিত্তি লাভ করবে।

অধ্যাদেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিবন্ধন কর্মকর্তাদের পেশাগত সুরক্ষা প্রদান এবং বকেয়া অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ। মূল আইনের ৬৮ নম্বর ধারায় একটি নতুন শর্ত যুক্ত করার মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, কোনো দলিল নিবন্ধনের সময় যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ‘সৎ বিশ্বাসে’ দায়িত্ব পালন করেন, তবে পরবর্তী সময়ে যদি কোনো ফি বা কর বকেয়া হিসেবে শনাক্ত হয়, তার জন্য ওই কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা যাবে না। পরিবর্তে, সরকারের প্রাপ্য এই বকেয়া অর্থ দলিলের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকেই আদায় করা হবে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের পথ নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনজ্ঞরা মনে করছেন, এই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অস্পষ্টতা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়মুক্তির বিধানটি নিবন্ধন কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বিধা দূর করবে। অন্যদিকে, ফি ও করের সংজ্ঞা বিস্তৃত করায় সরকারি কোষাগারে রাজস্ব আহরণ আরও সুশৃঙ্খল হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই আইনি সংস্কার ভূমি ও দলিল ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার ডিজিটাল ও আধুনিক রূপান্তরের একটি প্রাথমিক স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করে তুলবে।