নির্ভুল ভোটগ্রহণই এখন মূল লক্ষ্য: যমুনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

নির্ভুল ভোটগ্রহণই এখন মূল লক্ষ্য: যমুনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ বার্তা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:৩৫

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, তাতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে তিনি চলমান নির্বাচনী প্রচারণার গুণগত পরিবর্তনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধান উপদেষ্টার মতে, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণায় যে সৌজন্যবোধ ও সৌহার্দ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা দেশের চিরাচরিত রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবর্তন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এবারের প্রচারণায় কেউ কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে না, যা একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচায়ক।

বৈঠক শেষে যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আলোচনার বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সভায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কৌশলগত অবস্থান এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্বে এখন পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতিতে প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের মানুষ এবার এক নতুন ধারার নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে যেখানে রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবর্তে জনমতের প্রতিফলনই মুখ্য হয়ে উঠবে।

তবে প্রস্তুতির ওপর সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসন্ন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত রাখাকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আগামী সপ্তাহে ভোটগ্রহণের সময় কোনো ধরনের যান্ত্রিক বা মানবিক ত্রুটি না ঘটে। তাঁর প্রশাসনের বর্তমান মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিতকে আরও শক্তিশালী করবে। নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি থাকায় সামনের সময়টুকুকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা এক বিশেষ বার্তায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আসন্ন ভোট উৎসব হবে নিরাপদ এবং জনসাধারণের জন্য স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এক অনন্য মাধ্যম। বিশেষ করে নারীদের আনন্দময় অংশগ্রহণ এবং সপরিবারে ভোটকেন্দ্রে আসার মধ্য দিয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষায়, এই নির্বাচন কেবল একটি প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সুষ্ঠু ও অবাধ এই নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।