আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, 'চাকরিদাতারা যেন বলেন যে, বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী এসেছে, নিশ্চয়ই তারা ভালো করবে।'
রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা। এর আগে ২০২২ সালে গভর্নিং বডির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ খুবই ভালো ফ্রেমওয়ার্ক। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।'
তিনি বলেন, 'বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক। কিন্ত দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার জন্য আমাদের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো বিফল হবে। এসব জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে।'
আশা প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, 'জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে একটি অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে তা এ ধরনের জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'
তিনি বলেন, 'আমাদের তরুণ প্রজন্ম অনেক সৃজনশীল এবং সম্ভাবনাময়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের জন্য সম্ভাবনার দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া। প্রধান উপদেষ্টা এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর ভাবে কাজ করতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।'
সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোর অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় কমবে, সেই সঙ্গে শিল্প খাতে শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ ও শ্রমশক্তির উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ভাবে একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সহজ হবে, সভায় জানানো হয়।
এছাড়া, গভর্নিং বডির এই সভায় এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় এনএসডিএ-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- উদীয়মান সেক্টরগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস’ করা, সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনবলকে ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।
অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন: