পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঢাবি উপাচার্যের

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঢাবি উপাচার্যের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৪৯

আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৩

দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। মঙ্গলবার কেলে ঢাবি'র আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘একটি আপদকালীন সময়ে আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম। সেই আপদকালীন সময় এখন আর নেই। তাই আমি ভিসির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই। একইসঙ্গে ডেপুটেশনের এই দায়িত্ব থেকে সরে আমি আমার শিক্ষকতায় ফিরতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘যে আপদকালীন এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম, সে আপদকালীন কিংবা বিশেষ পরিস্থিতি এই মুহূর্তে আমরা উত্তরণ করতে পেরেছি আপনাদের সহযোগিতায়, অংশীজনদের ভালোবাসায়। সুতরাং আমি এখন মনে করছি যে একটি দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা একটু ভালো পর্যায়ে এসেছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন এই মুহূর্তে আমাদের যেন কোনো শূন্যতা না হয়, ধারাবাহিকতা যেন কোনো অসুবিধায় না পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মুথ ট্রানজিশন দরকার। সে জন্য আমাকে যদি সরকার মনে করেন, অংশীজনরা যদি মনে করেন যে আরও কিছু সময় ধারাবাহিকতার প্রশ্নে হঠাৎ শূন্যতা যেন না হয়- সেই প্রশ্নে যদি তারা কিছু সময় নিতে চান, আমি সেটি বিবেচনা করতে রাজি আছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতার স্বার্থে।’

ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘এখন আমরা সারাদেশের মতোই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেবে এবং আমরা তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করব। সুতরাং আমি সরে দাঁড়াচ্ছি এ কারণে যে আমি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এটিকে কোনো সময়ই আমি নিয়মিত চাকরি মনে করিনি।’

তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের দায়িত্বটি আমার কাছে একটা আমানতের মতো ছিল। আমাকে ছাত্ররা অনুরোধ করে ভালোবেসে এ দায়িত্বটা দিয়েছিলেন। আমাদের মতো তুলনামূলক ভাবে অরাজনৈতিক মানুষদের বাংলাদেশে এ ধরনের পদে আসার সুযোগ কম। আমি এটিকে আল্লাহর রহমত এবং ছাত্রদের মমতার একটি অংশ হিসেবে মনে করেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। আমি পেরেছি, স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছি। আমি সরে দাঁড়াতে চাই যাতে রাজনৈতিক সরকার তার মতো করে তার প্রশাসন সাজিয়ে নিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে যদি তাদের আমার সহযোগিতা দরকার হয়, আমি যেকোনো সময় প্রস্তুত আছি।’

ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘আমি বর্তমানে ডেপুটেশনে আছি। এই পদে ডেপুটেশন থেকে আমি অব্যাহতি চাইব এবং আমি আমার মূল কাজ- উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতায় ফেরত যেতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘এরপরের পরিস্থিতিতে যদি অন্য কোনো দায়িত্বের বিষয় থাকে, অন্য কোনো সুযোগ যদি আল্লাহ আমাকে দেন, তখন আমি সেটা চিন্তা করব, বিবেচনা করব। আপাতত অনেকদিন কঠিন পরিশ্রম হয়েছে আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকার থেকে যিনি আসেন, স্বাগত। অবস্থানটা পরিষ্কার করতে চাই। অবস্থানটা হচ্ছে যে আমি সরে দাঁড়ানোর জন্য সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত। তারা তাদের মতো করে প্রশাসন সাজিয়ে নিতে চাইলে আমার যদি কোনো ভূমিকা প্রয়োজন হয়, সেটিতে আমি রাজি আছি। কিন্তু আমি চাই এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিকতা যেন থাকে।’

ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘আমি মনে করছি এখনই জানানো দরকার। আমি যদি এটি নির্বাচনের পরে হঠাৎ করে করি, তাহলে মনে হবে যেকোনো কারণে নতুন সরকারের সঙ্গে আমার কোনো মনোমালিন্য আছে। সেটি নেই। আমি জেনারেলি একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে এসেছিলাম। সেই পরিস্থিতিটা এখন আর নেই বলেই আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করতে পারেন যে আমি হয়তো কোনো চাপে পড়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আপনারা জানেন, আমি খুব সাধারণ মানুষ, কিন্তু আমি চাপে নত হওয়ার মানুষ না। এটি আপনাদের সঙ্গে থাকার কারণে আমার সেই মনোবল আছে। এরকম কোনো বিষয় আসলে হয়নি।’