গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে: প্রধান উপদেষ্টা

গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে: প্রধান উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২৭

আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৩৯

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, 'ভয় নয়, সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাই নয়; বরং রাষ্ট্র কোন পথে এগোবে- তার সিদ্ধান্ত জনগণ নেবে। এই ভোট শুধু সরকার বদলাবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে।'

তিনি বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।'

গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে- এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।'

তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত প্রজন্ম আজ প্রথমবার সত্যিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।'

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'নারীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন এবং দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই নির্বাচন তাঁদের জন্য নতুন সূচনা।'

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, 'যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সাফল্যের পর আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আপামর জনগণের- বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের- আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন, এই গণভোট কোনোটিই সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাই তাদের কাছে চিরঋণী। প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কিছু দিন আসে, যার তাৎপর্য থাকে সুদূরপ্রসারী, যে দিন নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র এবং স্থায়িত্ব ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য। আগামী পরশু ঠিক তেমনই একটি দিন, যে দিন দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন করব এবং পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করব।'

তিনি আরও বলেন, 'ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নাগরিক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাগ করে নেওয়াকে আমি আমার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব মনে করেছি।'

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল। এ জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতিটি সদস্যকে। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আশাব্যঞ্জক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পেরেছি।'

তিনি বলেন, 'তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও আমাদের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছায়া রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এবং প্রচার-প্রচারণাকালে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় আমরা কিছু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এই সহিংসতা জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া- কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।’