রাষ্ট্রপতিই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন, অতিথি তালিকায় থাকতে পারে প্রায় এক হাজার নাম: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

রাষ্ট্রপতিই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন, অতিথি তালিকায় থাকতে পারে প্রায় এক হাজার নাম: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩১

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি—সংবিধানের বিধান উল্লেখ করে এমনটাই জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই শপথ পড়াবেন।”

রাষ্ট্রপতি হিসেবে বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আয়োজন ঘিরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দিক থেকে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে কম-বেশি এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান—যা শপথ অনুষ্ঠানের পরিসর সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় কতজন সদস্য থাকবেন—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে রাজি হননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার আকার নির্ভর করবে সংসদ নেতা তথা যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পছন্দ ও প্রয়োজনের ওপর। কতজনকে এখন মন্ত্রী হিসেবে রাখতে চান, আর পরবর্তীতে পরিবর্তন বা সম্প্রসারণ হবে কি না—সেটিও মূলত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়।

শপথ অনুষ্ঠান ১৭ ফেব্রুয়ারি নাকি ১৮ ফেব্রুয়ারি—কোন তারিখকে সামনে রেখে কাজ হচ্ছে, এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্পষ্ট করে বলেন, নির্দিষ্ট দিন-তারিখ এখনও জানানো হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনকে যদি কোনো তারিখ ও সময় “ইন্ডিকেট” করা হয়, তাহলে সেটি কালই হোক বা দুইদিন পর—ঠিক সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগে থেকে কোনো তারিখ ঘোষণা করার সুযোগ নেই বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সংসদ সদস্যদের গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশিত হয়েছে এবং ২৯৭টি আসনে নির্বাচিতদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার জন্য তিন দিনের সময়সীমা রয়েছে। কর্মদিবস বিবেচনায় এই সময় গণনা শুরু হতে পারে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে—এভাবে ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার কথাই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সংসদ সদস্যদের শপথ শেষ হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। এরপর যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করবেন যে তিনি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন। সে তথ্যের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

এরপর “সুবিধাজনক সময়” নির্ধারণ করে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তাঁর ভাষ্য, আগামী তিন দিন—বা সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে শপথ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এর বাইরে এখনই আর নির্দিষ্ট করে কিছু বলার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সচিবালয়ের বক্তব্য থেকে যা স্পষ্ট—সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ধাপগুলো দ্রুত এগোনোর প্রস্তুতি থাকলেও, শপথের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্তভাবে নির্ভর করছে পরবর্তী নির্দেশনা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার গতিপথের ওপর।