বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ওইদিন বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
সংসদ সচিবালয় সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করেন। নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে স্পিকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ ধারা অনুযায়ী, স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির মনোনীত- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নির্ধারিত- কোনো সদস্য প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। ফলে অধিবেশনের শুরুতেই সংসদের নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশন ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ২০৯টি আসনে জয় পায়। এছাড়া জোটভুক্ত কয়েকটি দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিও সীমিত সংখ্যক আসনে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। বিরোধী শিবিরে জামায়াত ৬৮টি আসনসহ কয়েকটি দল সংসদে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও কয়েকজন নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুধু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা নয়; বরং অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণে আগামী পাঁচ বছরের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মূল্যনীতির বিষয়ে সংসদীয় আলোচনার দিকে নজর থাকবে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের।
Tag:
আরো পড়ুন: