গুরুতর অপরাধে জড়িতদের জন্য রাজনৈতিক পরিচয় কোনো সুরক্ষা দেবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ধর্ষণ, হত্যা বা যেকোনো বড় অপরাধে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের আশ্রয়দাতা ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
শনিবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংসদ সদস্য ও জেলার কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, নরসিংদী ও ঝিনাইদহের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। অপরাধীদের আশ্রয় দিলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন। সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিতে জড়িতদের শুধু চাকরি হারাতে হবে না, বিভাগীয় ব্যবস্থা ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে মামলার মুখোমুখি হতে হবে।
উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে সরকার ও বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। ঝিনাইদহে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সংবিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের ত্যাগের প্রতি অসম্মানজনক কোনো পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করবে না। গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ায় কোনো ফাঁকফোকর রাখা হবে না বলেও তিনি জানান।
সভায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন ও সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই অপরাধ দমন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে।
আরো পড়ুন: