নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীর গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর

নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীর গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর
ফাইল ছবি।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৩১

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বৈষম্যবিরোধী আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর করেন।

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, 'সিদ্ধিরগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইন্টিরিয়র মিস্ত্রী সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার আবেদন দেখানো হয়েছিলো। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত দু'পক্ষের শুনানী শেষে গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।'

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, 'সাবেক মেয়র আইভীকে সকলেই চেনেন। আইভীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে এজাহারকারী আইভীর নাম দিতেন। আইভী এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। আমরা আদালতে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। আদালত শুনানী শেষে গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আমরা আইনি ভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।'

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি মামলায় ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শ্যোন এ্যারেষ্টের আবেদন করেন। ২০২৪ সালের ৩০ জুন কৃষক ওয়াজেদ আলী বাদি হয়ে ইন্টিরিয়র মিস্ত্রী সেলিম মন্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই চিটাগাং রোড এলাকাং ডার্চ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের  নিচতলায় অগ্নিসংযোগ ঘটে। এতে ব্যাংকের ইন্টিরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত সেলিম মন্ডলসহ তিন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যান।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলায় এবং সদর মডেল থানায় দায়ের করা হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলায় জামিন পান।  

গত বছরের ০৯ মে ভোর রাতে শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই সাথে গত বছরের নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ও সদর থানায় দায়ের করা আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।