বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটাতে পারে আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংসদকে ঘিরে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, নতুন সংসদ সেই আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দিতে পারে।
শনিবার ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনগণ এমন একটি সংসদ দেখতে চায় যেখানে গণতান্ত্রিক চর্চা, নীতি ও জবাবদিহিতা গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, অতীতে সংসদ নিয়ে মানুষের মনে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালাটি মূলত প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রীদের জন্য আয়োজন করা হয়। এতে সংসদীয় কার্যপ্রণালী, বিধি-বিধান, স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত নীতিমালা এবং গণতান্ত্রিক আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদীয় চর্চা ও ঐতিহ্য সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কর্মশালায় সংসদের কার্যপ্রণালী, বিধি এবং সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নতুন সংসদ সদস্যরা যাতে সংসদের নিয়ম-কানুন, প্রথা ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
তার মতে, যারা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই ধরনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তারা অতীতের নেতিবাচক চর্চা থেকে দূরে থেকে সংসদে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বিএনপি জানিয়েছে, আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সামনে রেখে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। দলটির মতে, নতুন জনপ্রতিনিধিদের সংসদীয় দায়িত্ব সম্পর্কে প্রস্তুত করতে এবং পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে। সংসদীয় আচরণ, নীতি ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব বাড়ালে তা শুধু আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকেই শক্তিশালী করবে না, বরং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আসন্ন অধিবেশন তাই শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
আরো পড়ুন: