ঢাকায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দলের আইনপ্রণেতাদের সংসদীয় কার্যক্রম, নীতি নির্ধারণ এবং আইন প্রণয়নের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রস্তুত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সকাল ১০টায় কর্মশালার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে ঢাকা জেলা এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগের সংসদ সদস্যরা সকালের অধিবেশনে অংশ নেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মশালার সমাপনী পর্বে বিকেলে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান এবং জ্যেষ্ঠ নেতা ওসমান ফারুক উল্লেখযোগ্য।
দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালার উদ্বোধন করা হয় শুক্রবার। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমান প্রথম দিনের কার্যক্রমের সূচনা করেন। ওই দিন সকালে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অধিবেশনে অংশ নেন, আর বিকেলের অধিবেশনে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, নতুন সংসদ সদস্যদের সংসদীয় বিধি-বিধান, কার্যপ্রণালী এবং নীতি-অগ্রাধিকারের বিষয়ে ধারণা দিতে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সংসদে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদীয় আচরণবিধি এবং প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই অধিবেশন আহ্বান করেন।
দলীয় তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংসদে বিএনপি বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রবেশ করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৪৬ জনই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সংখ্যক নতুন আইনপ্রণেতার উপস্থিতি সংসদের কার্যক্রমে নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নীতি-আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
নতুন সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি এবং আইনপ্রণেতাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরো পড়ুন: