দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো এবং ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি এবং জ্বালানির মূল্য কাঠামোসহ খাতটির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সিস্টেম লস কমানোর সম্ভাব্য উপায় নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, শিল্প, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনা জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এমন খাতগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন যেখানে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপচয় কমানোর সুযোগ রয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৈঠকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং মজুদ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে এই বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সতর্ক পরিকল্পনা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নার্গিস আক্তারের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সেখানে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের সম্ভাবনা সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীর সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন এবং শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। গত তিন শনিবার ধরেই তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে সরকারি কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়গুলো তদারকি করছেন।
আরো পড়ুন: