বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম জানিয়েছেন, দেশের বন্ধ হয়ে থাকা পাটকলগুলো পুনরায় চালু করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে পাট ও পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়িয়ে এই খাতকে আবারও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার পিরোজপুর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রকল্পের অগ্রগতি ও কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এক সময় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নানা কারণে এই খাত কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তবে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাটপণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
শরীফুল আলম বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পাট ও পাটবীজ উৎপাদন বাড়ানো, বন্ধ হয়ে থাকা মিলগুলো পুনরায় চালু করা এবং পাট শিল্পের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ দ্রুত দৃশ্যমান করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটজাত দ্রব্য ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি স্মরণ করেন যে ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় শিল্পের বিকাশের জন্য আবারও পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পাটপণ্য ব্যবহারের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া যায় এবং পাটের বাজার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়।
পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, যুগ্মসচিব জাহিদ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক সাদাত অপু সায়েম, গণপূর্ত বিভাগ পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাট শিল্প পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ সফল হলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শিল্পখাত হিসেবে পাটের আন্তর্জাতিক বাজারও সম্প্রসারিত হতে পারে।
আরো পড়ুন: