নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: পানিসম্পদ মন্ত্রী

নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: পানিসম্পদ মন্ত্রী
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শনিবার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় নদী তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: বাসস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২৬ ২১:০৪

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর। তিনি জানান, চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় তিন হাজার একশ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, যার ফলে প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা পায়নি। এসব বিষয় বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ নিয়মিতভাবে তদারকি করা হবে এবং কাজের মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর এলাকার বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন। নদী ভাঙনে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা, জমিজমা এবং জীবিকার উৎস হারিয়েছে। এই অঞ্চলে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিকাজও প্রায়ই ব্যাহত হয়।

তিনি বলেন, সরকার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে এবং জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে নদী তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. সাহাদাত হোসেন সেলিমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে উপকূলীয় এই অঞ্চলের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।