কৃষক হত্যার দায়ে নারীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

কৃষক হত্যার দায়ে নারীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ২১:২০

আপডেট: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ২১:২৬

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ইকরী গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেনকে (৪০) শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে এক নারীসহ চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৪ এর বিচারক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বড়াইগ্রাম উপজেলার ইকোরি গ্রামের আব্দুল বারির ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩৫), গুরুদাসপুর উপজেলার সোনাবাজু গ্রামের ইয়ারুল প্রামানিকের ছেলে রশিদ প্রামানিক (৪২), একই এলাকার কাঁচু খাঁর স্ত্রী আরিফা খাতুন (৩০) এবং জিয়াউর রহমানের ছেলে জিহাদ আলী (৩৪)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) রুহুল আমিন তালুকদার টগর বলেন, '২০২০ সালে ১৫ জুনে নিহত মোবারক হোসেন মাঠে গরু নিয়ে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধার পরে মাঠের একটি পাট ক্ষেতের আইলে হাত-পা বাঁধা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে। পর দিন এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম থানায় মৃত মোবারক আলীর স্ত্রী রানী বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।'

আদালত সূত্র জানায়, নিহত মোবারক কৃষি কাজ করলেও খারাপ মেয়েদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিল। তিনি তার প্রতিবেশী শারীরিক প্রতিবন্ধী কাঁচু খাঁর স্ত্রী আরিফা খাতুনের সঙ্গে টাকার প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুললেও দীর্ঘদিন কোনো টাকা না দিয়ে সর্ম্পক চালিয়ে যান। স্বামীর সঙ্গে বয়সের প্রায় ৩০ বছর ব্যবধান ও পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আরিফা মোবারকসহ আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মোবারক টাকা না দেওয়ায় তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন আরিফা। একই এলাকার আসাদুল, জিহাদ আলীসহ অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে মোবারকের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখায় মোবারক বিষয়টি এলাকায় লোকজনের কাছে প্রকাশ করে দিতে চান। পরে আরিফা, আসাদুল, জিহাদ, রশিদ পরিকল্পনা করে মোবারককে পাট ক্ষেতে ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর আসাদুল ইসলাম, রশিদ প্রামানিক, আরিফা খাতুন ও জিহাদ পরকীয়ার জেরে হত্যার কথা স্বীকার করেন।