পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। মঙ্গলবার থেকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু।
সোমবার ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। বিকেলের পর থেকেই সড়কে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নামে। তবে সড়ক পথে বাসে বাড়তি ভাড়া এবং ট্রেনের আসনের টিকিট কিনেও ট্রেনে উঠতে না পারার মতো নানা দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের চন্দ্রা, খাড়াজোড়া ও কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারিও দেখা যায়।
চন্দ্রা বাস স্ট্যান্ডে বেশ কয়েকটি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী দর দাম করে বাসে উঠছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই পরিবহন কর্তৃপক্ষ বাস ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট এবং তুলনামূলক বেশি দামে তেল কিনতে হওয়ায় আগের তুলনায় ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সোমবার রাতের মতো মঙ্গলবার ভোর থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে যাত্রী চাপ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন বিলম্বে ছাড়েনি। ফলে ভিড় বেশি হলেও যাত্রীদের বেশ উৎফুল্ল দেখা গেছে।
এদিন ভোরে ঢাকা থেকে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যায় ভোর ৬টায় রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস। এরপর ৬টা ৪৫ মিনিটে চিলাহাটিগামী নীলনাগর এক্সপ্রেস, সোয়া ৭টায় খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্দুর প্রভাতী, ৮টায় দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস সময়মতো ছেড়ে যায়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ অথবা ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদ-উল-ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এছাড়া, ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পূর্ব ঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আর ১৭ মার্চ শব-ই-কদরের ছুটি মিলিয়ে টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
আরো পড়ুন: