ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা সুপারিশ করবো: অতিরিক্ত সচিব

ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা সুপারিশ করবো: অতিরিক্ত সচিব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫১

নৌ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম বলেছেন, 'যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে এটা কারও জন্য কাম্য নয়। যারা বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে তাদের পরিবারের জন্য সমবেদনা। আমরা সুপারিশ করবো ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।'

পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনে ঢাকা থেকে আগত তদন্ত কমিটির নৌ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম এসব কথা বলেন। 

রোববার সকাল ১০টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে স্পিডবোড নিয়ে হাজির হন এই কর্মকর্তা। 

এ সময় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার মহাব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ, দৌলতদিয়া নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহাসহ ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী বিন্দু। 

অতিরিক্ত সচিব দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট, পল্টুন, জিরো পয়েন্ট এবং দুর্ঘটনায় কবলিত সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ঘুরে দেখেন। দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এপ্রোচ সড়কে গাড়ি নামার ঢালু খাল নিয়ে কথা বলেন। তাছাড়া পাশের বাড়ি নিয়েও কথা বলেন। জিরো পয়েন্ট এলাকায় তিনি বিআইডব্লিউটিসির ওয়াকিটকি সঠিক আছে কি না সব বিষয় তিনি দেখেন। তাছাড়া যথা সময়ে তদন্ত ফাইল জমা দেওয়া বিষয়ে কথা বলেন। 

রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। 

শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলে। সে সময় দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটের অবশিষ্ট পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেসব স্থানেও শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িক ভাবে উদ্ধার কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।

ফেরিঘাটের দুর্ঘটনায় বাসের কোনো সমস্যা ছিল না -

দৌলতদিয়ার ৩ নং ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে বাসচালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বাস দুর্ঘটনার জন্য ঘাটের অব্যবস্থাপনাকেই দুষছেন। 

চালকরা বলছেন, ঘাটের পন্টুনে রেলিং বা ব্যারিকেড থাকলে বাসটি এভাবে নদীতে পড়ে যেত না। এছাড়া ঘাটের এ্যাপ্রোচ সড়ক ঢালু ও খাড়া। যার কারণে গাড়ি ওঠানামা করতেও চালকদের বেগ পেতে হয়।

সৌহার্দ্য পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মনির হোসেন বলেন, 'দৌলতদিয়া ফেরীঘাটের জিরো পয়েন্টে অনেক সময় বিআইডব্লিউটিসির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা দায়িত্বে থাকেন। ঘাটের পরিস্থিতি না বুঝেই অনেক সময় নদী পাড়ি দিতে আসা ঢাকামুখী গাড়িগুলোকে ফেরীঘাটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।'

তিনি বলেন, 'গত বুধবার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিকেও ৩ নম্বর ঘাটে পাঠিয়ে দেন। ঘাটে এসে তারা দেখেন, একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে চলা শুরু করেছে। উপায় না পেয়ে পন্টুনের মাথায় সংযোগ সড়কে বাসটি পরের ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ছোট ফেরি এসে পন্টুনে ধাক্কা দিয়ে ভেড়ে। সংযোগ সড়ক ঢালু সড়ক হওয়ায় এবং পন্টুনের ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সরাসরি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় বাসটি।'