স্বাস্থ্যসেবায় মানবিকতা ও সেবামুখী মনোভাব জরুরি: চিকিৎসকদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান

স্বাস্থ্যসেবায় মানবিকতা ও সেবামুখী মনোভাব জরুরি: চিকিৎসকদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৪

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনগণমুখী করতে চিকিৎসকদের সেবামুখী মানসিকতা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি জনসেবার প্রতি দায়বদ্ধতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তার মতে, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রতি চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনে সেবামুখী মনোভাব অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।

ইন্টারন্যাশনাল হার্ট ফেইলিউর কনফারেন্সের সমাপনী সেশনে দেওয়া এই বক্তব্যে স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়ন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সম্মেলনটি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিউর বিভাগ এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি যৌথভাবে আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংক্রামক ও অসংক্রামক—উভয় ধরনের রোগ মোকাবিলায় সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে হৃদরোগসহ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্য কাঠামোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তা আরও কার্যকর, সমন্বিত এবং মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য।

প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, জিয়াউর রহমানের সময় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন চিকিৎসক, ওষুধ কোম্পানি এবং সরকারের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি চিকিৎসা পেশাকে সমাজের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে রোগীদের প্রতি সহমর্মিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন দেশের স্বাস্থ্যনীতি উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং সবার জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।