জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির কারণে পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সমিতির নেতারা এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। বৈঠকে জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, অনেক পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী পাম্প চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তাদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয়ের অভাব এবং পরিবহনসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। বিশেষ করে আংশিকভাবে ভর্তি ট্যাংকার পাঠানো হলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় এবং এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
পাম্প মালিকরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পূর্ণ ট্যাংকারে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয় এবং একই জেলার বিভিন্ন পাম্পে সরবরাহ বণ্টনে আরও কার্যকর সমন্বয় করা হয়।
বৈঠকে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও উঠে আসে। সমিতি স্বীকার করেছে যে, কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম বা মজুতদারির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, তবে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেছে, পুরো খাতের চিত্র এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় না।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্রি না করে জ্বালানি মজুত করে রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে।
পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, যেসব ডিলার মজুতদারির সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হবেন, তাদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রেও তারা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।
সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বাজারে চাহিদার চাপের মধ্যে ভারসাম্য আনতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আরো পড়ুন: