এনসিপিকে সতর্কবার্তা: ‘জামায়াত প্রজন্ম হয়ে উঠবেন না’:পার্থো

এনসিপিকে সতর্কবার্তা: ‘জামায়াত প্রজন্ম হয়ে উঠবেন না’:পার্থো
মঙ্গলবার সংসদে বক্তব্য রাখছেন ভোলা-১ আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার আন্দালীভ রহমান পার্থ। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ২০:২০

জাতীয় সংসদে তরুণ নেতৃত্বের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালীব রহমান পার্থো। তিনি নতুন প্রজন্মকে বিভাজনমূলক বা চরমপন্থী রাজনীতির প্রভাব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সংসদে রুল ৬২-এর অধীনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে পার্থো এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন তাদের প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করলেও কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শে অন্ধভাবে জড়িয়ে না পড়েন।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল একটি বহুমাত্রিক আন্দোলন, যেখানে বিভিন্ন পক্ষের অবদান ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গোষ্ঠী এককভাবে এই আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সংবিধান সংস্কারের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পার্থো। তার মতে, বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করলে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তিনি জানতে চান, আন্দোলনের সময় কেন একটি অন্তর্বর্তী বা বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অতীতে আন্দোলনের বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি, যা এখন বিভ্রান্তি তৈরি করছে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবু কিছু কৌশলগত অবস্থানের সমালোচনা করেন।

সাম্প্রতিক গণভোটের স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পার্থো। তার মতে, ভোটারদের সামনে সীমিত বিকল্প রাখা হয়েছিল, যা প্রকৃত অর্থে জনগণের মতামত প্রতিফলিত করে না।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান ও জুলাই চার্টারের প্রতি সম্মান রেখে সকল শহীদের অবদান সমানভাবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, নতুন প্রজন্ম যেন কোনো ধরনের চরমপন্থার দিকে না ঝুঁকে, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখে।

অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় সংবিধান সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।