বাংলাদেশে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে রোববার, যেখানে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন শনিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নির্ধারিত ৩০টি উপজেলায় সকাল ৯টা থেকে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতে এসব এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু হচ্ছে। এসব অঞ্চলে ছোট শিশুদের মধ্যে হাম-রুবেলা সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে, তারা আগে টিকা নিয়েছে কিনা তা বিবেচ্য হবে না। তবে জ্বর বা অসুস্থতা থাকলে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংক্রমণ বা জ্বর থাকলে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, আর সুস্থ শিশুদের শুধুমাত্র টিকা প্রদান করা হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাম-রুবেলার প্রায় ৮২ শতাংশ আক্রান্তই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, যা এই বয়সসীমাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলো—যেমন স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার এবং বিদ্যমান টিকাকেন্দ্র—প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে এবং আগামী জুলাইয়ের মধ্যে এটি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম-রুবেলার মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
আরো পড়ুন: