সংস্কারবিরোধী অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন মির্জা ফখরুল

সংস্কারবিরোধী অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন মির্জা ফখরুল
শনিবার হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বিএসএস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:২৬

বিএনপি সংস্কারের বিরোধী—এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এ ধরনের দাবি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে এবং দল সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শনিবার হবিগঞ্জে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন ধারণা সঠিক নয়, বরং দল প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত।

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার ভাষায়, এই যুদ্ধ জাতির পরিচয়, গৌরব এবং অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবমূল্যায়ন বা প্রশ্ন তোলার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এটিকে কর্তৃত্ববাদবিরোধী প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এতে দলের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি বলেন, অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে দলে রাখা হবে না। এ ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যেখানে সংগঠনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গাউস, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

বক্তারা তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানেই প্রথম সুসংগঠিত সামরিক কৌশল প্রণয়ন করা হয়, যেখানে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১১টি সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেডে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।