জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ষষ্ঠ ইয়ং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তরুণ গবেষকরা অংশ নেন, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেই নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন, মানবকল্যাণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি জানান, বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষার সম্প্রসারণ, গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা।
“ইয়ং সায়েন্টিস্টস ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কংগ্রেসে প্রযুক্তি-নির্ভর গবেষণা, নতুন উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
মন্ত্রী তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে বলেন, সৃজনশীলতা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার এখনই সময়। তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদেরও অর্জিত জ্ঞান দেশের কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার এবং তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একটি জাতীয় এআই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং শিল্পখাতে এআই প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বকে নতুন এক রূপান্তরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে প্রযুক্তিগত সেশন, গবেষণা উপস্থাপনা, প্যানেল আলোচনা এবং প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
আরো পড়ুন: