একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে একটি অগ্রসর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারা অনুযায়ী দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। তবে এই অগ্রযাত্রার পথে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতাকে বড় অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো উত্তরাধিকারসূত্রে পেলেও শক্তিশালী জনসমর্থন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা এবং বেগম খালেদা জিয়ার অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতাকে বর্তমান সরকারের পথচলার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি। অর্থমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বাজেটের ওপর এই বিশাল চাপ সামলাতে ইতোমধ্যে অফিস সময় কমানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার মতো কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ কমাতে সরকার আপাতত জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তার পরিধি বাড়িয়ে সরকার ইতোমধ্যে ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া আইসিটি, ব্লু-ইকোনমি এবং ইকো-ট্যুরিজমের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগও এই পরিকল্পনার অংশ।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং পুঁজিবাজারের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন থাকবে বলে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জনগণের সমর্থন কামনা করে বলেন, বিচক্ষণ নীতি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই বাংলাদেশ বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে একটি টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে।
আরো পড়ুন: