সংসদীয় প্রক্রিয়ায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের মধ্য দিয়ে স্থায়ী আইনি কাঠামোতে ফিরছে দেশ

সংসদীয় প্রক্রিয়ায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের মধ্য দিয়ে স্থায়ী আইনি কাঠামোতে ফিরছে দেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৩৫

দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে আইনি সংস্কারের পথে বড় এক ধাপ অতিক্রম করল বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) সকালের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে আরও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন জরুরি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করা হয়।

সংসদীয় কার্যক্রমের বিবরণ অনুযায়ী, বিলগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা প্রস্তাব উত্থাপন করার পর কোনো বিতর্ক ছাড়াই সেগুলো পাস হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের মেয়াদে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। সংসদের বিশেষ কমিটি এর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পাসের সুপারিশ করে। আজ পাস হওয়া ১০টি বিল সেই অপরিবর্তিত তালিকারই অংশ।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতের গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এছাড়া রাজস্ব কাঠামো আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ‘এক্সাইজেস এন্ড সল্ট বিল’ এবং ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়।

নগর উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ ও পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের পাঁচটি ভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল উত্থাপন করেন। এর ফলে নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং রংপুর এখন থেকে নিজস্ব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠার আইনি ভিত্তি পেল।

পরিবেশ ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এদিন আরও দুটি বিল পাস হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল’ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করলে সংসদ তা গ্রহণ করে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে আইনে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়া দেশের প্রশাসনিক চাকা সচল রাখতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।