আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা

আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:১৬

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে সরকারের সাম্প্রতিক কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বিশেষ নির্দেশনায় বাহিনীর ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্য সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেয়ে তৃণমূল পর্যায়ে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

রাজধানীর রাজারবাগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাহিনীর বিশাল সদস্যগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে এই ঋণ মওকুফ প্রক্রিয়ায়। এটি কেবল একটি আর্থিক সহযোগিতা নয়, বরং সরাসরি উৎপাদনশীল খাতের সঙ্গে জড়িতদের মনোবল বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ।

দেশের সর্ববৃহৎ এই বাহিনীর কাঠামো অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। সারাদেশে প্রায় ৬১ লাখ সদস্য থাকলেও তাদের মাত্র ২ শতাংশ সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী। বাকি ৯৮ শতাংশ সদস্যই মূলত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন এবং তাদের জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনের সময় বা জাতীয় উৎসবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভাতা পেলেও বছরের বাকি সময় হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ ও বৃক্ষরোপণের মতো কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন। ফলে কৃষিঋণ মওকুফ তাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তৎকালীন সরকার ১৯৯৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে দরিদ্র এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিল। বর্তমানে ২৬৩টি শাখার মাধ্যমে এই ব্যাংকটি তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যদের বিনা জামানতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, প্রায় সাড়ে ৬ লাখ সদস্য এ পর্যন্ত ঋণ সহায়তা পেয়েছেন এবং তাদের কিস্তি পরিশোধের হার সন্তোষজনক, যা দেশের অন্য অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যতিক্রম।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে জনবল ঘাটতি পূরণ এবং মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ৮০০-র বেশি শূন্যপদে নতুন নিয়োগ এবং শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে গ্রামীণ উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিতে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে। বর্তমান সরকারের এই জনবান্ধব উদ্যোগ ও ব্যাংকের প্রশাসনিক তৎপরতা ভবিষ্যতে দেশের কৃষি বিপ্লবে বিশেষ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।