বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনকারী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী আইন প্রণয়ন করেছে জাতীয় সংসদ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলের অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সহায়তার পথ প্রশস্ত হলো।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বিলটি সংসদে উত্থাপনকালে বলেন, এই আইনটি কেবল আর্থিক সহায়তার জন্য নয়, বরং যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং অসীম সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন, তাদের মর্যাদাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় জীবনে জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শ ও মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে রাষ্ট্র সমর্থিত পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলটি যখন আলোচনার জন্য পেশ করা হয়, তখন কোনো পক্ষ থেকেই এর বিরোধিতা করা হয়নি। ফলে কোনো জটিলতা ছাড়াই বিলটি দ্রুত পাস হয়ে যায়। এই আইনের আওতায় শহীদ পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং আহত যোদ্ধাদের শারীরিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, একই দিনে জাতীয় সংসদ দুটি অধিবেশনে প্রায় ২০টি বিল পাস করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত বিভিন্ন অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া। তবে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট এই বিলটি সংসদ সদস্যদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে। সংসদ সদস্যরা এই উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
আরো পড়ুন: