স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, 'সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে সাংবিধানিক যে গণভোট, এই গণভোট সেই গণভোট নয়। অধ্যাদেশ অনুসারে আরপিও অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একই তারিখে আলাদা ব্যালটে গণভোট আয়োজন করেছে। ফলে এই গণভোট অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে আইনে রূপান্তরের প্রয়োজন ছিল না।'
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আইনমন্ত্রী বলেন, 'গুম কমিশন অধ্যাদেশ, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই বাছাই করা সাপেক্ষে ভবিষ্যতে আইনে রূপান্তর করা হবে। আগামী ১৫ মে’র পরে গুম কমিশন নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ করা হবে।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'যে ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য রাখা হয়েছে সেগুলো অধিকতর যাচাই বাছাই করে স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে আবার বিল আকারে আনা হবে।'
কবে নাগাদ বিল আকারে আনা হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এটাতে একটু সময় লাগবে। তবে ঠিক কতদিন লাগবে এটা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না।'
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এখনো তো সংসদের অধিবেশন শেষ হয়ে যায়নি। তাই বলা যায় এগুলো এখনো বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।'
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'সংবিধানে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নাই যে ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজনে আর কোনো গণভোট আয়োজন করা যাবে না। যদি প্রয়োজন হয় তবে আবারও গণভোট আয়োজন করা যাবে।'
তিনি বলেন, 'সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো নিষ্পত্তির আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ও শব-ই-বরাতের দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যদিবস কম থাকলেও সংসদ সচিবালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বিজি প্রেস ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিন-রাত পরিশ্রমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিধি মোতাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারে বিলগুলো উত্থাপন ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে তিনি তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, 'স্থায়ী কমিটিগুলো এখনো গঠিত না হওয়ায় একটি 'বিশেষ সংসদীয় কমিটি'র মাধ্যমে এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়েছে।'
কমিটির সুপারিশ ও পাসের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, '৯৮টি অধ্যাদেশ অবিকল অবস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংশোধিত আকারে অথবা রহিত ও হেফাজতকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।'
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিল সংখ্যা নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার প্রশ্ন ও ভুল বোঝাবুঝির জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'আইনমন্ত্রী ফ্লোরে জবাব দিয়েছেন, ৯১টার মধ্যেই কিন্তু বাকি ১৭টা অন্তর্ভুক্ত। কারণ কোনো কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন, এক মাস, দুই মাস পরে দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়েছে, কোথাও কোথাও তৃতীয় সংশোধনীও আনা হয়েছে। মূলত অধ্যাদেশ একটাই। যখন বিল আকারে উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে, সব অধ্যাদেশগুলোকে এক করে একটি বিল আকারেই উত্থাপন করা হয়েছে। এটা হয়ত বিরোধী দলীয় নেতা খেয়াল করেননি।'
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের বিষয়ে তিনি বলেন, 'সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদার। কিউরেটর নিয়োগ ও পদত্যাগ সংক্রান্ত বিধিগুলো আরও স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার সুযোগ রয়েছে। আগামী অধিবেশনে এটি আরও আলোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে পুনরায় উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে।'
গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইসিটি আইন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমি নিজে গুমের শিকার। আমরা চাই না তাড়াহুড়ো করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস হোক, যাতে অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়। কিছু অসঙ্গতি দূর করে সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই আইনগুলোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হবে, যাতে ভুক্তভোগীদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়।'
তিনি বলেন, 'সংসদীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী বিরোধী দল বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতেই পারে। তবে সংসদের বাইরে গিয়ে অসত্য তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হলে তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা সরকারের দায়িত্ব।'
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, স্পিকার বিরোধী দলীয় সদস্যদের নজিরবিহীন ভাবে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তিগুলোও রিপোর্টে হুবহু সংরক্ষণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ওয়াকআউট করা যৌক্তিক হয়নি।
Tag:
আরো পড়ুন: