ইউএইচএফপিও সম্মেলনে যোগদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইউএইচএফপিও সম্মেলনে যোগদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইউএইচএফপিও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৮

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্মেলনে যোগদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের স্বাস্থ্য নীতিকে আরও যুগোপযোগী করা এবং মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসকদের কাছে সরাসরি রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই বৃহৎ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার ও উন্নয়নের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সফল চিকিৎসকদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত অবস্থায় জরুরি সেবা ক্যাটাগরিতে অসাধারণ অবদানের জন্য ৬ জন চিকিৎসককে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত এই চিকিৎসকরা হলেন— ডা. শোভন কুমার, ডা. আল মোরশেদ, ডা. মুজিবুর রহমান, ডা. সাজিদ হাসান, ডা. সুমন কান্তি সাহা এবং ডা. তাসনিম জুবায়ের। পেশাদারিত্বের প্রতি এই স্বীকৃতি মাঠ পর্যায়ের অন্য চিকিৎসকদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাসসহ সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক ও পেশাগত সমস্যাগুলো সরাসরি সরকারের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলো, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।