এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই, ‘সাইলেন্ট এক্সপালশন’ বাতিলের ঘোষণা

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই, ‘সাইলেন্ট এক্সপালশন’ বাতিলের ঘোষণা
আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলন। ছবি: বিএসএস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫০

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আগামী ২ জুলাই থেকে এই পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে পাবলিক পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিতর্কিত ‘সাইলেন্ট এক্সপালশন’ বা নীরবে বহিষ্কারের প্রথা বাতিলের ঐতিহাসিক নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।

বৈঠক শেষে সংবাদ সংস্থা বিএসএস-কে মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ২ জুলাই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি বা রুটিন প্রকাশ করবে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এবারের পরীক্ষার অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো বহিষ্কার সংক্রান্ত আইনি কঠোরতা ও স্বচ্ছতা। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পাবলিক পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপালশন’-এর কোনো স্থান নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনেও এমন কোনো বিধান ছিল না। কোনো শিক্ষার্থী যদি অসদুপায় অবলম্বন করে, তবে তার শাস্তি হতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং সেটি অবশ্যই পরীক্ষা কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে হবে। গোপনে বা বাড়ি পাঠানোর পর কাউকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া আইনিভাবে বৈধ নয় বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

আসন্ন মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পরীক্ষার কঠোর নিয়মকানুন মূলত শিক্ষক এবং কেন্দ্র সচিবদের জন্য, যাতে শিক্ষার মান ও পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষা করা যায়। সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।

শিক্ষাব্যবস্থার এই সংস্কার ও পরীক্ষা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাটি দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়টি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।