বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দেশে টেকসই গণতন্ত্র এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ভোলায় তিন দিনের সফর শেষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার ভোলার সার্কিট হাউসে আয়োজিত ওই সভায় স্পিকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বিগত দুই দশকে দেশের মানুষ প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আজ গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। স্পিকারের মতে, আধুনিক বিশ্বে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্পিকার দেশের মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেয় না। গুম, হত্যা ও নজিরবিহীন দমন-পীড়নের মধ্যেও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসে তাদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। জুলাইয়ের এই আন্দোলন বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং একটি জাতি হিসেবে আমাদের গর্বিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি বাংলাদেশকে দুর্বল করার চেষ্টা করলেও এদেশের জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনড়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার আগামী দিনে জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক বনিয়াদ শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।
সুশাসন প্রসঙ্গে স্পিকার আরও জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বর্তমানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার। কোনো ব্যক্তি যেন শুধুমাত্র ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বর্তমানে একটি ‘সুস্থ সম্পর্ক’ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসার এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. গোলাম নবী আলমগীরসহ স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে স্পিকার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাকে পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সভা শেষে তিনি বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
আরো পড়ুন: