সাভারের রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। ২০১৩ সালের এই ভয়াবহ ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৫ জন শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী গার্মেন্টস শিল্পেও এটি অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচার এখনও শেষ হয়নি।
২০১৫ সালে সিআইডি ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অবহেলায় হত্যার অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করে। পরের বছর ২০১৬ সালে মামলার বিচার শুরু হয়।
তবে একের পর এক আসামির উচ্চ আদালতে রিট ও আইনি জটিলতার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম প্রায় থমকে থাকে।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
তিনি আরও জানান, মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষী নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। ফলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশনার অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।
আইনজীবীদের মতে, অনেক ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ায় সাক্ষ্য দিতে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খান খোকন দাবি করেন, তার মক্কেল নির্দোষ। তিনি বলেন, “সোহেল রানাকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনেও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়ায় মনে হচ্ছে এ মামলার বিচার আর শেষ হবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিচার শেষে তার মক্কেল খালাস পাবেন।
বর্তমানে মামলাটি আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরো পড়ুন: