নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মধ্যরাতে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৬৩ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়, বিকেলে এমপি মাছুম মোস্তফা একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। পথে শ্যামগঞ্জ–বিরিশিরি সড়কের আতকাপাড়া এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে যান এবং সেখানে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যান।
এ সময় ১৫টি মোটরসাইকেলে ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক সেখানে এসে হট্টগোল শুরু করে এবং একপর্যায়ে এমপির গাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে করে তাকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে এমপি মাছুম মোস্তফা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী এবং এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা।
অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
পূর্বধলা থানা পুলিশ জানায়, মামলার পর এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা–৫ আসনে মাছুম মোস্তফা জয়ী হন।
আরো পড়ুন: