দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিত রোগে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক আক্রান্ত শিশুকে সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি রাখা হচ্ছে, যা নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ২০ হাজার ৪৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১৭ হাজার ৮১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এছাড়া প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ২০৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের বড় অংশই শিশু। এতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চাপের মুখে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করা এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। তারা শিশুদের জ্বর ও শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
আরো পড়ুন: