সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা- যা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত, তা নিরুৎসাহিত করতে নতুন করে কড়াকড়ির বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবহার অনুমোদিত নয়।
বুধবার দূতাবাসের এক ঘোষণায় বলা হয়, কোনো আবেদনকারীর ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য যদি সন্তানের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয় বলে মনে হয়, তাহলে কনস্যুলার কর্মকর্তা তার ভিসা আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।
এই অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির সাম্প্রতিক কঠোরতার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে।
গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দু'জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থায়ী ভাবে স্থগিত করবেন।
এই ঘোষণার দেড় মাসের মাথায় ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, গত ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। কবে নাগাদ এসব দেশের নাগরিকরা আবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা পাবেন, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, অভিবাসন আইনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যাদের যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের অভিবাসন ঠেকানোই এর মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই কড়াকড়ি শুধু ভিসা প্রক্রিয়াকেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রবণতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরও নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Tag:
আরো পড়ুন: