বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৪২

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এসব তথ্য জানান।

তারেক রহমান বলেন, 'ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না। অতীতেও আমরা তা করিনি।'

তিনি বলেন, 'আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী যারা যেখানে রয়েছেন তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা জানি পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে। প্রতিটি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে।'

বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।'

তিনি বলেন, 'যে কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে এই নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথ ভাবে অনুসরণ করলে সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।'

সরকারপ্রধান বলেন, 'সুতরাং, প্রতিটি নাগরিক যেন যে যার ধর্মীয় রীতিনীতি ও অধিকার বিনা বাধায়-স্বাধীন ভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে- এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দল-মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যেন শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।'

তিনি বলেন, 'আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- আমিও জোর দিয়ে আবারও একই কথা বলতে চাই- ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমান ভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।'

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, 'ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারও জিজ্ঞাসা ছিল না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সবার।'

তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বার বার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।'

তিনি আরও বলেন, 'সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সব ভাই-বোনদের আবারও আজকের দিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। বৌদ্ধ পূর্ণিমার এই বিশেষ দিনটি আপনাদের জন্য হয়ে উঠুক আরও আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ।'

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্ম মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।