বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ মে, ২০২৬ ১৯:৪৯

বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা এবং জনগণের সমস্যার সমাধান করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, "এই সরকার আপনাদের। আপনাদের ভোটেই এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাই জনগণের সেবা করা এবং তাদের সমস্যা দূর করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।" তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে, দেশের অগ্রগতি কেবল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, বরং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা ও বর্তমান সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলে পর্যাপ্ত শিল্পের অভাব রয়েছে, যার ফলে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে বন্ধ কারখানাগুলোর অবস্থা পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এগুলো চালু করা হবে। এছাড়া দেশের যুবসমাজের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

উন্নয়ন দর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কথা কম, কাজ বেশি—এটাই এখন আমাদের মূলমন্ত্র। এখন সময় দেশ গড়ার।"

সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী বাসিয়া নদীটি দীর্ঘকাল পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এই পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি এবং দেড় লক্ষ মানুষ পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বার্ষিক শস্য উৎপাদন প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার বর্তমানে দেশব্যাপী প্রায় ৬০টি স্থানে এ ধরনের খাল ও নদী পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাসিয়া নদীর ২৩ কিলোমিটার অংশ আগামী বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সাথে পরিবেশ রক্ষায় রোপণ করা হবে প্রায় ৫০ হাজার বৃক্ষ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।