বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান অ্যাথলেটদের খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’। শনিবার বিকেলে সিলেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেগা প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত থেকে সুইচ টিপে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকল্পের লোগো ও ট্রফি উন্মোচন করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিল একদল প্রাণবন্ত শিশু-কিশোর। “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেটের মূল অনুষ্ঠানের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলা স্টেডিয়াম থেকে কিশোর অ্যাথলেটরা ভার্চুয়ালি এই উদ্বোধনী আয়োজনে যুক্ত ছিল।
সরকারি সূত্র মতে, এই কর্মসূচিটি মূলত আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম ‘নতুন কুঁড়ি’র একটি আধুনিক ও বিস্তৃত সংস্করণ। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্য থেকে যারা ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ সম্ভাবনা প্রদর্শন করবে, তাদের নির্বাচন করা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের সরাসরি বাস্তবায়নে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, খেলাধুলাকে কেবল শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিবেশ তৈরি করছে সরকার। এর ফলে ক্রীড়াবিদদের পরিবারগুলোতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে পরিকল্পিতভাবে অ্যাথলেট বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোর প্রতিটি প্রান্তে এই প্রতিভা সন্ধানী কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা দেশের ক্রীড়া মানচিত্রকে বদলে দিতে সক্ষম হবে।
আরো পড়ুন: