শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে: স্বাস্থ্য মন্ত্রী

শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে: স্বাস্থ্য মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২৬ ১৯:২৪

আপডেট: ৩ মে, ২০২৬ ১৯:৩৫

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, 'বর্তমানে হাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মৃত্যুহারও কমেছে। পর্যাপ্ত টিকা আছে এবং সারাদেশে টিকার সরবরাহও ঠিক আছে।'

রোববার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, 'হামের ক্ষেত্রে আমরা ৮১ শতাংশ টিকা কভার করেছি। বাকিটাও খুব শিগগির কভার করে ফেলবো। দ্রুত আমরা শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করছি। একইসঙ্গে ভেজাল ওষুধ ও অপচিকিৎসা রোধে সারাদেশে মোবাইল টিমের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।'

তিনি বলেন, 'দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয় উঠে এসেছে। সেগুলো মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'বিগত সময়ে অপরিকল্পিত ভাবে নির্মিত অনেক হাসপাতাল ভবন এখনো অসমাপ্ত বা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব স্থাপনা দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।'

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, 'চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া, অ্যাম্বুলেন্স সংকট, হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতি, ভেজাল ওষুধ বিক্রি এবং চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির মতো সমস্যাগুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে।'

স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করে তিনি বলেন, 'অবৈধ ও অপরিকল্পিত ক্লিনিকগুলোতে মোবাইল টিমের মাধ্যমে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে অপচিকিৎসা ও রোগী হয়রানি বন্ধ করা যায়। একইসঙ্গে ডিসপেনসারিতে ভেজাল ওষুধ বিক্রি রোধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে ব্রেস্টফিডিং বা মাতৃদুগ্ধ পান বাড়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এ বিষয়ে কাউন্সেলিং কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন এবং সাপের কামড়ের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'

নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, 'উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্লাটুন কমান্ডারসহ ১০ জন করে আনসার সদস্য দেওয়া হবে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।'