আসন্ন ঈদে নারীদের জন্য প্রতিটি ট্রেনে আলাদা কামরা বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত রুলের শুনানিতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।
রিট সম্পর্কে তিনি বলেন, '১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকবে বলা আছে। সেখানে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে জরিমানা আরোপের কথা উল্লেখ আছে ১১৯ ধারায়। ওই দুই ধারার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে রিট করেন আইনজীবী মমতাজ পারভীন। পরে ১০ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ রেলওয়ের আইন অনুযায়ী নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তারপরও তাদের জন্য আলাদা কোনো কামরা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। আমি শুধু রেলের সেই নিয়মটি বাস্তবায়ন চাই। কারণ ট্রেনে ভ্রমণ অত্যন্ত আরামদায়ক। কিন্তু কোনো নারী যদি একা ট্রেনে যাতায়াত করতে চান, তাহলে প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে রেলে ওঠা যেমন কষ্টকর, তেমনি শত শত পুরুষের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে ট্রেনের কামরার ভেতরে আসন পর্যন্ত গিয়ে সিটে বসাটাও কঠিন হয়ে যায়।’
আইনজীবী আজমল বলেন, ‘রাতে কোনো নারী একা ট্রেনে ভ্রমণ করতে চাইলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তাই নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ দিলে দিনে কিংবা রাতে নারীরা তাদের কামরায় নির্দ্বিধায় উঠে আসনে বসতে পারবেন। এতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকিও কমবে। এছাড়া ট্রেনে ভ্রমণের সময় যদি নামাজের সময় হয়, তখন তারা নিয়মিত সেখানে নামাজও আদায় করতে পারবেন।’
রুলে আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন।
সেই বিচারাধীন রুলে সম্পূরক আবেদনে এ আদেশ দেন জানিয়ে আইনজীবী মো. আজমল হোসেন বলেন, 'আইনে আছে আলাদা কামরার কথা, সেটি বাস্তবায়নের রুল বিচারাধীন। এই অবস্থায় ঈদে নারীদের কষ্ট লাঘবে আবেদন করা হয়। পরে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।'
Tag:
আরো পড়ুন: