দেশের অর্থনীতি এখনও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতি এখনও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে: অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬ ১৫:৫১

দেশের অর্থনীতি এখনও বড় ধরনের চাপে রয়েছে এবং বর্তমান ঋণাত্মক পরিস্থিতি থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে শুধু তেল ও গ্যাস খাতেই সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় এবং বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে গত দুই মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনীতি এখনও বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, অতীতে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দের বড় অংশ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অপচয় হয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু বরাদ্দ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না, বরং সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেটিও কঠোরভাবে তদারকি করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে অনেক মেডিকেল কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগ্যতা ছাড়া ভর্তি কিংবা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঠিক অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এসব প্রস্তুতি ছাড়া আসনসংখ্যা বাড়ানো উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। সেখানে চিকিৎসার বিল সরকার পরিশোধ করবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, চিকিৎসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হাসপাতালের উন্নয়নকাজে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।