ডুয়েট 'ব্লকেড কর্মসূচি' শুরু

ডুয়েট 'ব্লকেড কর্মসূচি' শুরু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬ ১৮:৩৯

নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে গাজীপুরস্থ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) চলা আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে পূর্ব ঘোষিত ডুয়েট 'ব্লকেড কর্মসূচি'। 

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। মূল ফটকে তালা দিয় ঝুলিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন জারির পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে। তাদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের দেখা যায়। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত। নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। গত শুক্রবারও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্দোলন অব্যাহত থাকে। নতুন উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। সকাল থেকেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে পক্ষে এবং বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা দেওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হয়েছে অন্তত ২০ জন।

একই দাবিতে সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের  মূল গেট বন্ধ করে দিয়েছে। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গেটে অবস্থান করলেও শিক্ষার্থীরা তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। সকাল থেকে ডুয়েট এবং আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তারা প্রশাসনিক ভবনেও তালা দিয়েছে বলে জানা যায়। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে। তাদের মতে, ডুয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা তুলনামূলক বেশি। ফলে ডুয়েটের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ অধিক কার্যকর হবে। 

এদিকে, নতুন ভিসি মোহাম্মদ ইকবাল রোববার সন্ধ্যায় যোগদান করলেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি। রাতে তিনি শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অনলাইনে একটি মতবিনিময় সভা করেছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ডুয়েটের ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনে স্থানীয় ও ক্যাম্পাস ছাত্রদল শিবিরের নেতাকর্মীদের স্পষ্ট অবস্থান এবং বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে। 

এদিকে রোববার রাতে ডুয়েটিয়ানদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ক্যাম্পাসে কোন ধরনের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। দলের হয়ে কেউ ডুয়েটে রাজনীতি করতে পারবে না, করতে দেয়া হবে না।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বসে আমিনুল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান ফটকের অবস্থান করছেন। নতুন উপাচার্য এখনো ক্যাম্পাসে আসেননি। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।'