থাইরয়েডে আক্রান্ত সাত জনের মধ্যে ৫ জনই নারী

থাইরয়েডে আক্রান্ত সাত জনের মধ্যে ৫ জনই নারী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬ ২২:৩০

দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ভাবে থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছে। আক্রান্তদের প্রতি সাত জনের মধ্যে পাঁচ জনই নারী। আবার আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ ভাগই চিকিৎসার আওতায় নেই।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। 

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৬ ও ‘আন্তজার্তিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়। 

থাইরয়েড দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শনাক্তকরণে গুরুত্বের অভাবে প্রতিদিনই এ রোগের ভুক্তভোগী বাড়ছে।

দীর্ঘমেয়াদি থাইরয়েডের জটিলতা থেকে বাঁচতে তাই জন্মের পর পরই শিশুর থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক ছিলেন সোসাইটির সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। 

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা, সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা জেসমীন ফেরদৌস, প্রকাশনা সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. পাপড়ি মুৎসুদ্দী, সাইন্টিফিক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক ডা. তপতী মন্ডল, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সেক্রেটারি মুজাহিদ শুভসহ অনেকে। 

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে। আক্রান্ত ব্যক্তির ৬০ শতাংশই চিকিৎসা সেবার আওতার বাইরে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যার শিকার হচ্ছে। যাদের পরিবারে থাইরয়েড রোগী আছে তাদের পরিবারের সকল সদস্যকে থাইরয়েড স্ক্রিনিংয়ের (শনাক্তকরণ) মাধ্যমে রোগটি আছে কি না তা নির্ণয়ের জন্য আহ্বান জানানো হয়। 

বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, থাইরয়েড রোগীদের ৬ শতাংশ হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগছে। যারা ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ঠান্ডা সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু তারা এ সমস্যার কথা জানেনই না। রোগের শুরুতে থাইরয়েড নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগের সফল চিকিৎসা সম্ভব বলেও জানান চিকিৎসকরা। 

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, ‘থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের হরমোন নিঃসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের বিপাক হার, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিন্তু এই ছোট্ট গ্রন্থিতে জটিলতা দেখা দিলে শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দেখা দিতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজম, থাইরয়েড ক্যানসারের মত জটিলতা।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে থাইরয়েড সমস্যা নির্ণয় করা গেলে তা খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাব, উপসর্গ উপেক্ষা করা এবং সময়মতো পরীক্ষা না করানোর জন্য অনেক সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। থাইরয়েড সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা সময়ের দাবি।’ 

অধ্যাপক ডা. বারী বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকারি অর্থায়নে থাইরয়েডে বরাদ্দ নেই বললেই চলে। অথচ থাইরয়েড শনাক্তকরণে ও চিকিৎসায় বড় বাজেট দরকার। বর্তমানে এ রোগে কতজন ভুগছে, সেটি জানা জরুরি। কিন্তু এর জন্য নিজস্ব যে কর্মসূচি থাকা দরকার, সেটি নেই। ফলে অন্যান্য দেশের চিত্র দিয়ে বাংলাদেশের রোগীর হিসেব করা হচ্ছে। এতে করে প্রকৃত আড়ালেই থাকছে।’

ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, ‘বিশ্বে ৫৮৯ মিলিয়ন ডায়াবেটিসের রোগী আছে। থাইরয়েডের রোগীও প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যা যতটা সহজে বলা যাচ্ছে, থাইরয়েডের ক্ষেত্রে যাচ্ছেনা। কারণ আমাদের নিজস্ব কোনো গবেষণা নেই। আমরা বলছি বাংলাদেশে ২০ শতাংশের মত, সে অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ এতে ভুগছেন। বিএমইউ হাসপাতালে যেসব মায়েরা চিকিৎসা করাতে আসেন, তাদের অন্তত ৮ শতাংশ হাইপোথাইরয়েডের রোগী। এটির কারণে মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তা কমে যায়। এখন দরকার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা। এজন্য ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’ 

নিনমাসের অধ্যাপক ডা. কামালউদ্দিন আহমেদ অডিটোরিয়াম একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন করা হয়। এতে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।