চাকরির নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

চাকরির নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬ ১৫:৩১

সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)।

গ্রেফতাররা হলেন মো. তারেক সরকার (৪০) ও মো. পলাশ কবির (৪২)। তাদের মধ্যে তারেক সরকার একটি বিশেষ বাহিনীর চাকরিচ্যুত সাবেক সদস্য।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীতে র‌্যাব-১০ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, নরসিংদী সদরের বাসিন্দা তারেক সরকার প্রায় তিন বছর ধরে সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন।

র‌্যাব জানায়, তারেক সরকার বিভিন্ন ভুয়া ও তথাকথিত ভিআইপি মোবাইল সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। এরপর সরকারি কর্মকর্তা ও বাহিনীর সদস্যদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেন।

চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তারেক সরকার ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে একটি বিশেষ বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন। পরে তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং প্রায় ১৪ বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন। বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও চাকরি হারান।

র‌্যাবের দাবি, সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো ও কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার স্বীকার করেছেন, এসব প্রতারণার মাধ্যমে তিনি প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

র‌্যাব জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৪ মে নরসিংদীর সঙ্গীতা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বাসা থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়।

জব্দ আলামতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের সঙ্গে ফটোশপ করা ছবি পাওয়া গেছে, যা ব্যবহার করে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ ঘটনায় সহযোগী হিসেবে পলাশ কবিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় যৌথ অভিযানে তাকেও গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।