অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬ ২০:৫৫

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিআরটিএ ভিজিলেন্স ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।'

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার পর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী গরুর হাট পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'প্রত্যেকটি টার্মিনালেই আমাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। পাশাপাশি বিআরটিএ ভিজিলেন্স টিমে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। আমরা তাদের সঙ্গে আজকেও কথা বলেছি। এই ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন এবং আমাদের নজরে আসা মাত্রই আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।'

তিনি বলেন, 'পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াতে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি ব্যাপক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, ব্যাংক, ঈদ জামাত এবং ঈদের ছুটিকালীন ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।'

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, 'ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটকে কেন্দ্র করে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি হাটে দৃশ্যমান পুলিশ উপস্থিতিসহ একটি করে সাব কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি গরুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন থাকছে।'

তিনি বলেন, 'এছাড়াও জাল নোট অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে ডিবিসহ সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টিম ২৪ ঘন্টা মোতায়ন আছে। অধিক পরিমাণ নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি এস্কট সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল টিম ফুড পেট্রোল এবং চেকপোস্ট ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। পশুর হাট কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।'

ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে যেমন গাবতলী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী চেকপোস্ট রয়েছে। পশুবাহী গাড়ি চলাচলের নজরদারি আছে যাতে কেউ কোনো পশুবাহী ট্রাককে নির্দিষ্ট হাট ছাড়া অন্য কোথাও জোরপূর্বক নামাতে না পারে। গরুর হাটের হাসিল কাউন্টারগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে হাটগুলোতে বুথ বা মোবাইল ব্যাংকিং থেকে লেনদেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'ঈদের আগের দিনগুলোতে ঢাকা ছাড়ছেন লাখ লাখ মানুষ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর যাতায়াত নিরাপদ ও জানজট মুক্ত করতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাস, লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী, বাস টার্মিনালসহ সদরঘাট, লঞ্চ টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়ন আছে। যাত্রী হয়রানী অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনরোধে ডিএমপির বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার এন্ট্রি এক্সিট পয়েন্টগুলো জানজট মুক্ত রাখা হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন এবং যত্রতত্র পার্কিং করা গাড়ির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গরুর হাটের কারণে প্রধান সড়কে যেন যানজট না হয় সে জন্য হাটের সীমানার বাইরের রাস্তা অথবা ফুটপাতে কোনো পশু রাখতে দেওয়া হবে না যেন যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে। ছিনতাই জালনোট অজ্ঞান পার্টি মলম পার্টি প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ টার্মিনালে আছে। প্রতিটি টার্মিনালে পুলিশ টহলও ফুট পেট্রোল ব্যবস্থা কার্যকর আছে। যাত্রী হয়রানী, টিকেট, কালোবাজারী, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজ প্রতিরোধে আমাদের নজরদারী অব্যাহত আছে।'

ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'পশুবাহী এবং যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্নে করতে অধিক চেকপোস্ট কার্যকর আছে এবং অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়ন আছে। এই ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং পশুরহাটের নিরাপত্তা কেন্দ্রিক সার্বক্ষণিক ভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা ২৪ ঘন্টা নিয়োজিত আছেন।'