ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন, পুলিশের লাঠিচার্জ

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন, পুলিশের লাঠিচার্জ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬ ১১:৪৭

আপডেট: ১ জুন, ২০২৬ ১৭:৪৯

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তারা নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে।

আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের ফলে ব্যাংকটিতে আবারও অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কয়েকশ আন্দোলনকারী ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধের চেষ্টা করেন। এতে মতিঝিলের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল এবং যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল।

তিনি বলেন, ‘বারবার বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’

ডিসি নাসিরুদ্দিনের দাবি, এ ঘটনায় পুলিশের এসি পেট্রোল মতিঝিলসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের একাংশের গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং তারা নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।